Home ENTREPRENEURSHIP কিভাবে খুজে পাবেন আপনার প্যাশন বা আবেগ

কিভাবে খুজে পাবেন আপনার প্যাশন বা আবেগ

30
0
Find your passion - Digital Evolution Hub

প্যাশন বা আবেগ হচ্ছে নিজের ভাললাগার এমন এক বিষয় যা নিয়ে কথা বলতে, কাজ করতে ভালো লাগে। মনের ভেতর থেকে উৎসাহ আসে সেই কাজ করার জন্য।

অনেকেই নিজের এই ভাললাগার বিষয় নিয়ে ব্যবসা শুরু করে দুর্দান্ত সফলতা লাভ করেন। অনেক সৌভাগ্যবান আছেন যারা চাকরিক্ষেত্রে নিজের ভাললাগার বিষয়টি খুঁজে পেয়ে যান। জব স্যাটিসফেকশন পান।

আবার অনেকেই জীবনের প্রয়োজনে, নিজের প্যাশন কে ছেড়ে অন্য ধরনের চাকরি করতে বাধ্য হন। ভাল না লাগলেও উপার্জনের জন্য সেই কাজ করতে বাধ্য হন।

অনেক মহিলা আছেন যাদের চোখে অনেক স্বপ্ন ছিল নিজের প্যাশনের ওপর কাজ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কিন্ত জীবনের যাঁতাকলে পরে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন নি।

“আমি তো তেমন কিছু জানিনা, আমি কি ব্যবসা করতে পারব ?’
“আমার তো কোন দক্ষতাই নেই, আমি কিছুই করতে পারব না।”

এই ধরণের কথা আমাকে প্রায়ই শুনতে হয় যখন আমি আমার ওয়ার্কশপের শেষে বলি, “আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করুন”

আপনার মনে কি নিজেকে নিয়ে এই ধরনের কোন চিন্তাভাবনা আছে ? নিজের প্রতি নিজেরই বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব আছে? বুঝতে পারছেন না আপনার প্যাশন কি, আপনার কোন বিশেষ দক্ষতা আর একটা নতুন রোজগারের সন্ধান দিতে পারে।

এর মধ্যে যদি একটা কথাও আপনার মনের সাথে মিলে যায়, আপনি যদি নিজের প্যাশন, নিজের দক্ষতার খোঁজ করছেন, তাহলে এই লেখাটি আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

এখানে আমি ১০টি সহজ প্রশ্ন / পদ্ধতি লিখছি। সেই প্রশ্নগুলো পর পর নিজেই নিজেকে করুন। উত্তরগুলো একটা খাতায় লিখুন। আপনি নিজেই নিজের প্যাশন খুজে পাবেন।

১) কি বিষয়ে কথা বলতে, আলোচনা করতে ভাল লাগে।
খেয়াল করে দেখবেন, একজন যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসে, সে যে কোন আলোচনার মধ্যে সেই বিষয়টি নিয়ে আসবে। বিজ্ঞান ভালো লাগলে, আলোচনাকে বিজ্ঞানের দিকে টেনে নিয়ে যায়, স্বাস্থ্য সচেতনতা ভালো লাগলে, সমস্ত আলোচনাকে “স্বাস্থ্য ভাল থাকলে সব ভালো হবে”, এই দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
আপনি নিজে বোঝার চেষ্টা করুন, আপনার এই ধরণের কি ভাললাগার বিষয় আছে।

২) আপনার বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করুন আপনার সবচেয়ে ভাল এবং খারাপ গুণ কি।
আপনি নিজে আপনার সম্পর্কে যা জানেন, একজন ভালো বন্ধু আপনার সম্পর্কে তার চেয়ে অনেক বেশি জানেন। বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে তাদের চোখে নিজের ভাল এবং খারাপ গুণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

৩) আপনার পরিবারকে জিজ্ঞাসা করুন যে আপনি ছোটবেলায় কী পছন্দ করতেন।
ছোটবেলায় উপার্জনের চাপ থাকেনা তাই নিজের ভাললাগার কাজগুলোই বেশি করা হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেগুলো মন থেকে মুছে যায়। বাড়ির বড়দের সাথে গল্প করে খুঁজে বার করার চেষ্টা করুন আপনার ছোটবেলার কাজের ধরন।

৪) কোন কাজে আপনি সবচেয়ে বেশি টাকা খরচা করেন।
সাংসারিক চাহিদা মেটানোর পর অনেকেই নিজের ভাললাগার কাজের জন্য টাকা খরচ করে থাকেন। কেউ রাস্তার কুকুরদের খাবার দেন, কেউ বই কিনতে ভালোবাসেন, কেউ ইলেকট্রনিক্স-এর নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্টের জন্য খরচা করেন।
আপনি বুঝতে চেষ্টা করুন, কোন কাজের জন্য আপনি বেশি খরচা করেন।

৫) কোন কাজ করতে শুরু করলে সময়ের জ্ঞান থাকেনা।
ফেসবুক দেখতে শুরু করলে সময়ের কোন হিসেব থাকেন কিন্তু এটা কোন গঠনমূলক কাজ নয়। সময় নষ্ট করা কাজ। এই ধরনের কাজের কথা বলছি না। ভাবতে চেষ্টা করুন আপনি কোন ধরনের গঠনমূলক কাজ করতে গিয়ে সময়ের হিসেব করেন না। যেমন কেউ হয়তো কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করতে ভালবাসেন এবং সেই কাজ করতে গিয়ে শেষ না হওয়া অব্দি সময়ের হিসাব করেন না।

৬) সবচেয়ে বেশি ভয় পান কিসে।
নতুন কোন কাজ শুরু করতে গিয়ে অনেকের মনে একটা ভয় কাজ করে। ‘লোকে কি বলবে’ বা ‘বাড়ির বড়রা বকাবকি করবে’ বা ‘যদি আমি না পারি’ এই ধরনের ভয় অনেকের মনে আসে। আপনি ভাবুন, নতুন কোন কাজ করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভয় পান কিসে।

৭) উত্তরগুলি একটি খাতায় লিখুন।
ওপরের 6 টি প্রশ্নের উত্তর খাতায় সাজিয়ে লিখুন। যাতে পুরো বিষয়টি আপনার চোখের সামনে থাকে। এর ফলে আপনি নিজেই নিজের ভাল লাগা, খারাপ লাগা, নিজের দক্ষতা, নিজের দুর্বলতা বুঝতে পারবেন।

৮) যা উত্তর পেলেন সেই সংক্রান্ত বিষয়গুলি সম্পরকে ইন্টারনেটে সার্চ করুন, ইউটিউব ভিডিও দেখুন।
খাতায় লেখা উত্তর গুলো দেখে নিজের প্যাশন সম্পর্কে একটু ধারনা নিশ্চই এসেছে। এবার সেই বিষয়গুলো নিয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করুন, ইউটিউব দেখুন যাতে আপনার ভালো লাগার বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনার ধারণা আরো স্বচ্ছ হয়।

৯) একটু সময় নিন, ভাবুন। খুজে পাবেন আপনার প্যাশন (আবেগ)।
যেসমস্ত তথ্য সংগ্রহ করলেন সেগুলো নিয়ে ভাবুন। কোন বিষয়টি সম্পর্কে আপনি মন থেকে উৎসাহ পাচ্ছেন। সেই কাজ করে মানুষের কোন ধরনের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন। আপনার প্যাশন দিয়ে মানুষের কি উপকার করতে পারবেন।

১০) নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।
যে বিষয়টি সম্পর্কে ভাবলেন, সেই বিষয় সম্পর্কে আরো পড়াশোনা করুন। নিজের দক্ষতা আরো বাড়িয়ে তুলুন। চিন্তাভাবনা আরো উন্নত করার চেষ্টা করুন, যাতে আপনার প্যাশন ব্যবহার করে অনেক মানুষের উপকার করতে পারেন।

নিজের প্যাশন খুঁজে বার করুন এবং কমেন্ট করে আপনার মতামত জানান।

পরবর্তী ব্লগে আলোচনা করব কিভাবে আপনি প্যাশন বা ভাললাগার বিষয় ব্যবহার করে উপার্জন করতে পারবেন।

Previous articleকিভাবে সফলতা লাভ করবেন।
Next articleAIDA Method – ডিজিট্যাল মার্কেটিং এর পদ্ধতি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here